রবিবার, ৩ মে, ২০২০

লকডাউনের ডাইরী



লকডাউনের ডাইরী 

(বেপরোয়া রাজীব; beparoyaliterature.blogspot.com)
৭ই মে, ২০২০। 
করোনার করুণায় সারা বিশ্বে এখন মৃত্যুর মিছিল চলছে।  মহামারীর এই লকডাউনের বাজারে চারদিক শুনসান।রাস্তা-ঘাট, হাটবাজার সর্বত্র শ্মসানের নিস্তপধতা। কাজ-কর্ম অনেই, খাবার দাবার নেই, শুধু সংক্রমনের পরিসংখান মৃত্যুর অপেক্ষায় প্রহর গোনা।  লকডাউনের এই বন্ধের বাজারে হাতে বিশেস কোন কাজ নেই।আমার স্টাডি- রুমে বসে খবরের কাগজ দেখছিলাম। হটাৎ একটা খবর পড়ে  চমকে উঠলাম। খবরটা হলো - "ডাঃ সেবাব্রত রায়ের অন্তর্ধান রহস্যঃ', মূল বিষয়টি হলো - গত ৫ই মে, ২০২০ থেকে ড: রায় নিখোঁজ। মানে তাকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছেনা। 
এই ডাঃ  রায় হলেন  দক্ষিণ কোলকাতার এক নামি হসপিটালের সু-চিকিৎসক ও বিখ্যাত গবেষক। তিনি আবার সতুদার (সত্যব্রত রায়)বিশেষ পরিচিত ও বন্ধুস্থানীয়। সপ্তাহখানেক আগেও ওনার সাথে আমাদের কথা হয়েছে। ওনার হাসপাতালে করোনা আক্রান্ত রোগীদের খুব ভালো চিকিৎসা করছিলেন। এবং ওনার একটা নিজস্ব গবেষণাগার আছে। যেখানে তিনি নিত্য নতুন কিছু আবিষ্কারের নেশায় মেতে থাকতেন। ওনার মুখে শুনেছিলাম যে, তিনি নাকি এন্টি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার করে ফেলেছেন ও শীঘ্রই মানব কল্যানে বাজারে আনতে চলেছেন। আরও অনেক কিছু আবিষ্কারের কথা বলছিলেন বটে, তবে সেসব আমাদের  মনে নেই। 
তাই ড: রায়ের এই ভাবে অন্তর্ধান হয়ে যাওয়াটা মেনে নিতে পারছিলাম না। মাত্র কদিন আগেই যিনি করোনার সাথে লড়াই করছিলেন এবং যার মুখে 'এন্টি করোনা ভ্যাকসিন আবিষ্কার' করে ফেলেছেন শুনেছি, তিনি হঠাৎ এমনি করে কিভাবে উধাও হয়ে গেলেন সেটাই আশ্চর্যের বিষয়। তাই আর বিলম্ব না করে সতুদার সাথে হানা দিলাম ড: রায়ের রাজপুরের বাংলোবাড়ির গবেষণাগারে।  
ড: রায় একজন অকৃতদার, সুচিকিৎসক ও আত্মভোলা গবেষক। সঙ্গী বলতে তার বহুদিনের পুরাতন ভৃত্য, ভজু।  আর একটা পোষ্য কুকুর - ভোম্বল। বাংলো বাড়িটা বিশাল বড়ো পাঁচিল দিয়ে ঘেরা। বাড়ির মধ্যিখানে একটি বড় উঠোন ও তার চারপাশে নানান প্রজাতির গাছ-গাছালি ও পশু-পাখিতে ভরা। উঠোনের একপাশে ল্যাবরেটরীর সাথে যুক্ত ড: রায়ের থাকার ঘর। উল্টো দিকে আরো দুটি ঘর যেখানে ভজু ও ভোম্বলের থাকা, খাওয়া রান্না-বান্না ইত্যাদি হয়।  
আমাদের দেখে ভজু হাউ-হাউ করে কেঁদে ফেলল। জিজ্ঞ্যাসা করে জানা গেলো যে, ড: রায় ৩রা মে, ২০২০, অনেক রাত পর্যন্ত  তাঁর ল্যাবরেটরীতে ছিলেন, তার পরদিন সকাল ৮টার সময় চা-জলখাবার দিতে গিয়ে দেখে, দরজা খোলা ড: নেই। গবেষণাগারের যন্ত্র পাতি, পশু-পাখি যথাস্থানে আছে। অথচ মানুষটাই নেই।  সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ করার পর থানা পুলিশ সব করা হয়েছে, কিন্তু মানুষটা যেন কপ্পুরের মোত ভ্যানিশ হয়ে গেছে।  আমাদের অনেক খোঁজা-খুঁজির পর সতুদার গোয়েন্দা চোখে বাগানের এক কোন থেকে একটি ডাইরী উদ্ধার হল; ডা: সেবাব্রত রায়ের ডাইরী। তিনি একজন ভাল চিকিত্সক গবেষক ছিলেনকিন্তু তার যে ডাইরী লেখার অভ্যাস ছিল সেটা জানা ছিলনা। 

কৌতুহলবসত পুরো ডাইরীটা পড়ে ফেললাম ! ভারি অদ্ভুদ লাগল. কেননা এর মধ্যে এমন সব অদ্ভুদ  আবিষ্কারের  ঘটনার উল্লেখ আছে যা আমার মত আনাড়ির পক্ষে সম্পূর্ণ বোধগম্য নয়।  ঠিক যেমন এর আগে প্রফেসর শঙ্কুর 'ব্যোমযাত্রীর ডাইরী' পড়েছিলাম। ডাইরীটা ঠিক যেমনি হাতে পেয়েছি, আপনাদের সামনে তুলে ধরলাম। সতুদা তো তদন্ত করছে। আপনারাও তদন্ত করে দেখুনতো এই অন্তর্ধান রহস্য সমাধান করতে পারেন কিনা!


27th March, 2020 / ২৭শে মার্চ, ২০২০।

অনেক দিন পর আবার  ডাইরী লিখছি. সারা বিশ্ব আজ কোরোনা কম্পিত। চারদিকে শুধু মৃত্যুর মিছিল। বিশ্বের সব বিজ্ঞানীরা এর প্রতিষেধক আবিস্কারে সচেস্ট। যে দ্রুতহারে এই  চীনা সংক্রামক ব্যধিটি  ছড়িয়ে পড়ছে তাতে বিশ্বের মানব সভ্যতা ধ্বংস হল বলে   ডিসেম্বর, 2019 এর মাঝামাঝি চীন থেকে শুরু করে সমগ্র বিশ্বে বিস্তার হয়ে এই মধ্য মার্চ, 2020 পর্যন্ত  দু'লক্ষের ও বেশি লোক মারা গেছে। গত কয়েক দিনে আমি  যে হসপিটালে চিকিত্সা করছিলাম, সেখানে এই করণায়  9 জনের মৃত্যু হয়েছে। এবং আমরা ডাক্তারও শঙ্কিত, কেননা তার মধ্যে  দু'জন COVID-19 আক্রান্ত ডাক্তারও আছেন। তাই আমি যদি হঠাত্ এই সংক্রমণে মারা যাই, আমার ডাইরীটা অন্তত অক্ষত থাকবে যাতে অসমাপ্ত কাজ পরে কেউ সম্পাদন করতে পারে.

৭ই এপ্রিল,২০২০। 
আমাদের ভারতে লকডাউনের আজ 15 দিন হয়ে গেলো, এ এক ভয়ঙ্কর অভিজ্ঞতা। এক অদৃশ্য শত্রুর সংক্রমনের ও মৃত্যুর ভয়ে সবাই আজ গৃহ বন্দী। সমস্ত পরিসেবা, যান-বাহন, দোকান-পাট, হাট-বাজার, কল- কারখানা - সব বন্ধ. একটু সর্দি-কাশী হয়েছে কী একে অপরকে সন্দেহের চোখে দেখছে, আর ততক্ষণাত্ তাকে ধরে নিয়ে কয়ারেনটাইনে ভর্তি করে দিচ্ছে। কেননা করোনা এমন এক ছোঁয়াচে রোগ যে রোগীর চার পাশে ও তার সংস্পর্শে যারা আসবে, সবাই সংক্রমিত হয়ে মৃত্যুর প্রহর গুণবে। তাইতো এই গ্রহটা এখন মনে হচ্ছে এক বিচ্ছিন্ন দ্বীপ। আশ-পাশ শুনশান  ও শ্মশানের নিস্তবদ্ধতা। যেন ভয়ঙ্কর বিচ্ছিন্ন এক অন্ধকারাছন্ন প্রাগৈতিহাসিক গুহার মধ্যে আমরা বাস করছি; যেখানে শুধু 'নেই নেই' -এর হাহাকার আর মৃত্যুর আর্তনাদ। 

গত সপ্তাহে আমার রোগীদের প্রশাসনিক নির্দেশমত  Hydroxychloroquine ও azithromycin সহযোগে করোনা রুগীদের চিকিৎসা করছিলাম, কিন্তু তাতে কোন আশানুরূপ ফল পাচ্ছিলাম না।  ফলত আমাদের ল্যাবরেটরী তে এক নতুন এন্টি করোনা ভ্যাকসিন তৈরী  করতে রাত  দিন এক করে ফেললাম। যার প্রধান উপাদান হোল - Hydroxychloroquine,  Azithromycin, Pyrogenium-Q, Echinacea -q, বাঁদুড়ের রক্ত,, করোনা রোগীর প্লাজমা  ও আরশোলার নির্যাসের এক রাসায়নিক সংমিশ্রণ। গবেষণাগারে পরীক্ষণ প্রায় সম্পূর্ণ; এবার শুধু প্রয়োগের অপেক্ষ্যা।  



১৭ই এপ্রিল, ২০২০। 
গত সপ্তাহ টা যেন  দু:স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে গেল। মৃত্যুর মিছিল অব্যাহত। তা প্রতিদিন লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।এর মধ্যে ত্রাণ  নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকার গুলির নির্লজ্ব রাজনৈতিক চাপানউতোর চলছে। গণবন্টন ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। বিভিন্ন প্রদেশে পরিযায়ী দিন-মজুর শ্রমিকরা আটকে পড়েছে, মানুষ অনাহারে মরছে। দেশে দুর্ভিক্ষ দেখা দিয়েছে।সমাজ ও অর্থ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। ট্রেন, বাস ও সব রকমের যান-বাহন বন্ধ। পরিযায়ী শ্রমীরা এক প্রদেশ থেকে আর এক প্রদেশে হাজার হাজার মাইল পায়ে হেঁটে ঘরে ফিরতে গিয়ে ক্ষিদের জ্বালায় ও পুলিশের অত্যাচারে মাঝপথে মারা যাচ্ছে। খাদ্যের অভাবে ক্ষুধাতুর মায়েরা সন্তান কোলে আত্মহত্যা করছে। তাই হৃদয়টা   দুমড়ে মুচড়ে খান খান হয়ে যাচ্ছে। সারা বিশ্বের বিজ্ঞ্যানীরা যেখানে এই  পৃথিবীকে ১৩ বার ধ্বংশ  করার মত মারণাস্ত্র আবিষ্কার করেছে, সামান্য এই করোনা ভাইরাসের হাত থেকে এই বিশ্বের  মানব সভ্যতাকে বাঁচাতে এখনো কোন প্রতিষেধক আবিষ্কার করতে পারলোনা।  এটা এই একবিংশ শতাব্দীর সব চেয়ে বড়ো  লজ্জার।  

বিশেষজ্ঞদের মতে, এইমুহূর্তে করোনার হাত থেকে বাঁচার একমাত্র উপায় হলো মানুষের গৃহ-বন্দি থাকা, করোনা রুগীর সংস্পর্শে না আসা ও সামাজিক দূরত্ব বা Social Distancing মেনে  চলা। কিন্তু এই Social Distancing কি  প্রকৃত কার্যকরী ভূমিকা নিতে পারছে? মনে হয় না।  কেননা নির্দিষ্ট দূরত্ব মেনে ক্রেতা লাইন দিয়ে যখন বিক্রেতার কাছ থেকে মাল পত্র কিনছে ও অর্থ বিনিময় করছে এবং সেই ক্রেতা যদি উপসর্গহীন করোনা সংক্রামিত থাকে, তাহলে দোকানদারও সংক্রামিত হবে। ফলত লাইনে অবস্থিত পরের সমস্ত ক্রেতাগন যারা ওই বিক্রেতার সান্যিদ্ধে আসবে, তারাও করোনা সংক্রামিত হবে। ফলে প্রতিরোধের এখানে বারো প্রশ্ন চিহ্ন দেখা দিচ্ছে।কিন্তু লকডাউনে দেশের সরকার জনগণকে সেই নির্দেশ দিলেও কে কার কথা শুনছে ! সবাই যেন নিয়ম ভাঙার প্রতিযোগিতায় মেতেছে। এই তো কাল সকালে মোল্লাপাড়ার বাজারের পাশ দিয়ে আসছিলাম। দেখলাম কারোও মুখে মাস্ক নেই, সবাই গাদাগাদি করে দাঁড়িয়ে মাল-পত্র বেচা-কেনা করছে। কারোর কোনো হুঁশ নেই, নেই কোনো সিভিক সেন্স। পুলিশ কিছু বলতে গেলে অকথ্য ভাষায় গালাগাল কোরে তাদের উপর ছাড়াও হচ্ছে। তারা নাকি আল্লার পয়গম্বর , মোহাম্মদের সন্তান; তাই মাস্ক পরবেনা - তাদের কিছু হবে না।  - বোঝো ঠেলা। করোনা যে কোনো রং, জাতি, ধর্ম বর্ণ ধোনি-গরিব, এসব কিছুই মানে না। এটা সবাইয়ের বোঝা উচিৎ।অথচ তাদের এই হঠকারিতায় এক জন করোনা আক্রান্ত থেকে কত হাজার হাজার হাজার লক্ষ লক্ষ লোক সমাজে সংক্রামিত হবে তার ধারণা নেই। ফলত রাজ্যে প্রশাসন ও আইন শৃঙ্খলা কার্যতঃ ভেঙে পড়েছে।দেশের জনগণ যদি এত আকাট, অশিক্ষিত ও মূর্খ হয় তাহলে দেশের বিপর্যয় নামতে বাধ্য।সেক্ষেত্রে প্রশাসনকে তা কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। কিন্তু আমাদের রাজ্যে মমতাময় সরকার নীরব দর্শক  কেননা ভোট যে বড়ো বালাই।ক্ষমতায় যে টিকে থাকতে হবে।  তবে একটা আশার আলো দেখতে পাচ্ছি। কেননা গত সপ্তাহে আমার  ল্যাবরেটরীতে যে এন্টি করোনা ভ্যাকসিন তৈরী করেছি তার সফল প্রয়োগ ইঁদুর ও গিনিপিকের ওপর করা হয়েছে। এখন শুধু পেটেন্ট নিয়ে মানুষের উপর প্রয়োগের অপেক্ষ্যা।





২৫শে  এপ্রিল,২০২০।

লকডাউনের এই বিগত দিন গুলিতে জীবন ও মৃত্যু আমাদেরকে অনেক শিক্ষা দিয়ে গেলো। প্রকৃতির কাছে যে আমরা কত অসহায়, সেই সত্যের মুখোমুখি আমরা।দেশ বিদেশের যে সব বিজ্ঞ্যানীরা এক সময় যুদ্ধের উন্মাদনায়  সভ্যতাকে ধ্বংশ  করার জন্য যে  পরমাণু বোমার আবিষ্কার  করেছিল,তারাই এখন এই করোনার হাতে পটাপট মরছে। সব চেয়ে বড়ো কথা হল, মানব জাতিকে বাঁচাবার যে উদেশ্য নিয়ে সরকার লকডাউন ঘোষণা করছে- কিছু মানুষের মধ্যে তা অমান্য করার যেন এক হিড়িক পড়ে  গেছে। যেমন কিছুদিন আগে দিল্লির নিজামুদ্দিন এর মুসলীম জনসভায় এবং গত  কাল হাওড়ার টিকিয়াপাড়ায় সংখ্যালঘুদের জামায়াতে এই করোনা ভাইরাসের প্রকোপ আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। সমাজের প্রত্যেক স্তরের মানুষের এটা বোঝা  উচিৎ যে,  করোনা ভাইরাসের কাছে কারোর রেহাই নেই। সেখানে ছোট বড়,ধনী-গরিব, হিন্দু- মুসলীম, বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান  কারোর কোনো প্রভেদ নেই।  করোনা তো আর বেছে বেছে সংক্রামিত হবে না। সুতরাং আমাদেরকে সচেতন হতে হবে।  সরকারের সাথে সহযোগীতা করে ধর্মীয় গোঁড়ামির  জমায়েত রুখতে হবে। তাছাড়া দেশে এখন যে সকল ফাঁসির আসামী যে মৃত্যু দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদী আছে তাদেরকে আর কষ্ট করে হত্যা না করে করোনা রোগীর সংস্পর্শে ছেড়ে দিলেই হয়।  তাহলে সরকার ও প্রশাষনের এই বিপুল পরিমান অর্থের অপচয় বন্ধ হতো। 

২৮শে এপ্রিল, ২০২০। 

এই কদিনে আমাদের ল্যাবরেটরীতে যে এন্টি করোনা ভ্যাকসিনের পরীক্ষামূলক পর্যবেক্ষণ চলছিল তাতে কিছু সংযুক্তি করণ ও পরিমার্জনের চেষ্টা চলছে।নতুন যে বৈশিষ্ট টা যুক্ত হচ্ছে তা হল - রিমোট সেন্সিং মেন্টো-টেরোরিস্ট ডেস্ট্রয়ার ক্রোমোজোম।অর্থাৎ যা করোনা জীবাণুকে ধ্বংশ তো করবেই এবং তার চার পাশে ১ কিলোমিটারের একটা সুরক্ষা বলয় তৈরী করবে।এবং সেই সুরক্ষা বলয়ের মধ্যে যদি এমন কোনো সমাজ-বিরোধী ধর্মীয় উগ্রবাদী ব্যক্তি, ধর্ষক, দুর্নীতিগ্রস্ত রাজনৈতিক নেতা, আতঙ্কবাদী জনগোষ্ঠী কিংবা বিচ্ছিন্নবাদী কোনো ধর্মীয় সংগঠন থাকে, (যেমন হিজবুল মুজাউদ্দিন, আই. এস. জঙ্গী সংগঠন, মাওবাদী, কাশ্মীরি বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রভৃতি ) তাদের মানষিক অবস্থার পর্যবেক্ষণ কোরে এই এন্টিভাইরাস দ্বিগুন বেগে তাদের মধ্যে সংক্রামিত হবে এবং তিনদিনের মধ্যে এদেরকে খতম কোরে এই সমাজ ও রাষ্ট্রকে সুরক্ষিত রাখবে। সেক্ষেত্রে এতো আইন -আদালত, থানা-পুলিশ, জেলের কোনো দরকার নেই বরং সরকারের বিপুল পরিমান অর্থের অপচয় বন্ধ হয়ে দেশ আরো সমৃদ্ধশালী হয়ে উঠবে।এবং আমি নিশ্চিৎ ইহা একদিন বাস্তবায়িত হবে, কেননা আমাদের গবেষণাগারে এর সফল প্রায়োগিক পরীক্ষণ প্রায় সমাপ্তির পথে।  


১ লা মে, ২০২০।  



এই করোনার ডামাডোলে আপনাদের আর একটি গুরুত্বপূর্ন আবিষ্কারের কথা বলতে ভুলে গেছি। আমরা সবাই যখন এই মারণ জীবাণুর ভয়ে গৃহবন্দী, কোথাও কোনো যানবাহন চলছে না; জীবন একেবারে স্তব্দ হয়ে গেছে। জনগণ বিভিন্ন শহরে আটকে পড়েছে।ফলে স্বল্প খরচে দ্রুত যোগাযোগ ও পরিবহনের মাধ্যম হিসাবে এক নতুন যানবাহনের চিন্তা মাথায় এলো।  উড়ন্ত সাইকেল।কোনো জ্বালানীর দরকার নেই।  শুধু  সাইকেলের মত প্যাডেল ঘোরাও আর  পাখির মত ডানা ঝাপ্টে  উড়ে. যাও।  কোনো যান-জটের বালাই নেই। ট্রাফিক রুলার গল্প নেই।  পেটে খাবার নেই তাতে কি? পাখির মতো আপন দেশে চলে যাও। শুধু ব্যাক-আপের জন্য দরকার উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন এক শক্তিশালী লিথিয়াম ব্যাটারী। যা কিনা সূর্যের আলোতেও রিচার্জ করা যাবে। ফলে প্যাডেল করতে করতে যখন মানুষ ক্লান্ত হয়ে পড়বে। আপনি তখন বিশ্রাম নেবেন আর এই ব্যাটারী ব্যাক-আপ দেবে ও সৌর তাপে চার্জ হতে থাকবে। ফলে ওড়া আর থামবে না। এই উড়ন্ত সাইকেলটা আমার রেডি আছে। ভাবছি আগামী ৪ঠা মে, ২০২০, এটার পরীক্ষামূলক উড়ানে চেপে ভারতে করোনা বৃদ্ধির প্রকোপটা একবার আকাশপথে সরেজমিনে পর্যবেক্ষণ করার পর ৫ই মে, ২০২০ আমার এই দুই আবিস্কার - ,এন্টি করোনা রিমোট সেন্সিং মেন্টো-টেরোরিস্ট ডেস্ট্রয়ার ক্রোমোজোম ভ্যাকসিন' ও উড়ন্ত সাইকেল কে বিশ্বের দরবারে পেশ করবো।  

গ্রন্থ স্বত্ত্ব - রাজীব কুমার মন্ডল 
                               









কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন