সোমবার, ১১ এপ্রিল, ২০১৬

The poetry of Odd-Time (Dusamayer Kabyo)









নবজাতক 

The New Born (Hope of Future)
হারুবাবুর ছেলে হোল - জমজ দুটি ছেলে,
খুশির জোয়ার এল আশা মায়ের কলে
সব দু:ক্ষ  ভুলে পরোমানন্দে মাতলো সবে           
হারুবাবুর গৃহ আজ মুখরিত মহাকলরবে
ছেলে-বুড়ো  মিললো সবাই; পাড়ার প্রতিবেশী,
জ্ঞান্টি -গুষ্টি সবাই এল; এল পিসি-মাসী
শাঁক বাজল, উলু দিল, বাজল হরেক বাঁশী
রাত্রি  শেষে ভোর  হল, নতুন সূর্য দিল প্রভাত-
একদিন যায়, দুদিন যায়, পার হয় -মাস -
আয়োজনের ত্রুটি নাই, খোকাদের আজ মুখেভাত। 
বাজল সানাই, বাজলো ঢাকের বাদ্দি,
জুটল যত গ্জ্ঞানী- গুনী, এলেন ডাক্তার বদ্দি। 
আজকে তাদের মুখে ভাত; হবে যে নাম করণ -
কূল - পুরুত তাই এলেন দিতে আশীষ বচন। ...
তোমাদের এই ছেলে দুটো হবে যে অনেক বড় -
একডাকে চিনবে লোকে,হবে দেশ জড়ো। 
হেলে দুলে আসেন দাদু, করেন বচন দান -
কুলের মুখ রেখো তোমরা; রেখো দেশের মান। 
- কোথায় ছিলেন নমি মাসি; এলেন ছুটে মুখে হাসি-
গতরাতে তিনি নাকি পেয়েছেন আভাষ -
একটা পাবে গান্ধীর স্বভাব, অন্যটা সুভাষ। 
এলেন পরে চশমা চোখে গম্ভীর মুখে মুখো মামাবাবু ;
বিশটি  বছর ছাত্র পড়িয়ে হয়েছেন তিনি কাবু,
বলেন তিনি- বুঝতে আমার হয়নিকো ভুল-
একটা হবে রবীন্দ্রনাথ; অন্যটি ভিমরুল- থুড়ি; নজরুল
এলেন পরে জ্যাঠামনি, শিল্প-কর্মে নিপুন,-
হঠাত কেশে  বিষম খেয়ে বলেন তিনি -
কেমন যেন বলছে মন- একটা হবে বছন; অপরটি মিঠুন। 
এবার এলেন বিদ্যে বোঝাই মেসোমশাই 
সে- যে অধ্যাপক মস্তবড় জ্ঞানী। ...
ধান দুর্বা মাথায় দিয়ে করেন তাদের আশীষ 
একটা হোক সত্যেন বোস; অন্যটি জগদীশ। 
এবার এলেন কাকুমনি,- ধম্মে-কর্মে মতি 
অহিংসা ধর্ম তার - মনটি সদানন্দ 
বলেন শেষে  স্মিত হেসে - একটা পাবে কিছুটা পরমহংস 
আর একটি বিবেকানন্দ। 

সকাল বেলার সূর্য এখন - সন্ধ্যাবেলায় অস্তমিত 
একে একে যত  অশির্বাদক হয়েছে সব গত !
গ্রীষ্মর পর বর্ষা আসে, শীতের পর বসন্ত 
দিনের শেষে জীবন পাতে 'ড়ে  এসেছে বেলা;
কালের পর কাল গিয়েছে; সঙ্গ হলো খেলা 
ঈশান কোনে  বিষান বাজে; আকাশ করে গুরু-গুড় 
দুর্নীতির আজ প্রলয় নাচন ক্ষুন-খারাবি হল শুরু
ছেলে তাদের বড়  হল , রাখল দেশের মান
ছেলে দুটো  বড়  হল , রাখল দেশে কূলের মান
একটা হল বখাটে, চিটিংবাজ - চন্দ্র-স্বামী,
আর একটি গুন্ডা রসিদ খান

-          বেপরোয়া




বিপন্ন শৈশব

শৈশব আমার লুট হয়ে গেছে-

শারদ-সকালের সোনা রোদে,                                            

সূর্যোদয়ের প্রাতে ছেঁড়া বস্তা হাতে -

ভাঙ্গা কাঁচ আর কাগজ কুড়াতে কুড়াতে .
শৈশব আমার মুখ ভার কোরে কাঁদে
সকাল হতে সন্ধে; সূর্যের মুখ না দেখে
মালিকের লাঠি- ঝ্ন্যটা খেয়ে দিন কাটে                       দুসময়ের কাব্য, বেপরোয়া
আর শুধু চায়ের দোকানে হাড়-ভাঙ্গা খেটে.

শৈশব আমার যন্ত্রণায় গুম্রে কাঁদে -
আজি শারদ-উত্সব মুখর রাত,
কেবল বাবুদের ফাই-ফরমস খেটে.
শৈশব আমার হতবাক হয়ে থমকে গেছে
বাবা-মায়ের খাংখেয়ালে বড়দের নির্বোধে;
দিন-রাত খেটে  সংসারের জয়াল কাঁধে
দম আমার মাগো বন্ধ হয়ে আসে
ভীষন কাজের চাপে; দ্বায়বোধের জাঁতা-পাশে.

শৈশব আমার বিপন্ন আজ বিদেশের হাতে
প্রাণ যে মাগো ওষ্টাগত বিশ্বায়নের ধাপে.
খেলাধুলা সব গেছে চুকে, পাহাড়প্রমান পড়ার চাপে
মাতৃভাষা ছাড়ি ভর্তি হোনু যবে ইংলিশ মিডিয়ামে.
আত্ম হননের ডাক আসে যেনো এক আলিখিত খামে.
শৈশব আমার বিমর্শ আজ বড়দের ভাবনায়
ধুঁকছে নগরজীবন লোভি নাগরিক কামনায়;
মরছে শিশু-মন বড়দের সীমাহীন চাহিদায়.

শৈশব আমার কোলুশিত আজ-
বড়দের বিকৃত কামনায়
শিশু সাত-এর অপুষ্ট দেহ-মন
বয়স্ক সতান্ন করে যে নিয়ত নিপীড়ন;
সে লজ্জা বলো মাগো রাখি কোথায়!
আমি শুধু ভাবি বসে অনুখন-
শুদ্ধ -সিশুমন হবে কী কখনো মধুবন
ক্ভূ হবে নাকি তা কানাইয়ের গোচারণ.. !

 ...... বেপরোয়া রাজীব